তৃতীয় অধ্যায়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের কার্যাবলীঃ
আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল বহুবিধ কার্য সম্পাদন করে থাক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল ব্যতীত কার্যক্রম করা যায় না রাজনৈতিক দল জনগণের নিকট তাদের কর্মসূচি পেশ করে তাই বলা হয় আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্থায়িত্ব সংরক্ষণে রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গণতন্ত্রের রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য রাজনৈতিক দল জনগণের দাবি দাওয়া আশা-প্রত্যাশা সরকারের কাছে পৌঁছে দেয় তাই রাজনৈতিক দল সরকার ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে
০১ জনমত তৈরি করাঃ রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ হলো জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ,মিটিং,মিছিল,পদসভা,বিক্ষোভ,প্রদর্শন,হরতাল,ধর্মঘট,জনসংযোগ প্রভৃতির মাধ্যমে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে বিরোধীদল আইনসভার সরকারি নীতির সমালোচনা করে



০২ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করাঃ রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে জনগণের দাবি দাওয়া ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি রাজনৈতিক দল সাড়া প্রদান করে এজন্য সভা সমিতির মাধ্যমে,পত্র পত্রিকার মাধ্যমে এবং আইনি সভার মাধ্যমে গণদাবি তুলে ধরে,এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে

০৩ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাঃ রাজনৈতিক দলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী করা রাজনৈতিক দল ক্ষমতা দখলের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের পর দলীয় প্রার্থী প্রার্থীদের নির্বাচনে আনার জন্য সর্ব প্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করে এদের মধ্যে অন্যতম হলো পরিচিতি সভা করা

০৪ প্রার্থী মনোনয়নঃ  রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করে ক্ষমতায় যেতে চাই এজন্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করা হয়

০৫ দলীয় আদর্শ কর্মসূচি প্রণয়ন ও প্রচারঃ রাজনৈতিক দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচি প্রণয়ন ও প্রচার প্রথমে দল আদর্শ কর্মসূচি প্রণয়ন করে পরে এগুলো সম্পর্কে জনমত গঠন ও জনসমর্থন আদায়ের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালায় প্রচারণার অংশ হিসেবে পুস্তক পুস্তিকা প্রকাশ করে পত্র পত্রিকা ঘোষণা প্রকাশ করে এইসব এর মাধ্যমে জনসমর্থনের ভিত্তি করে তুলে

০৬ বিরোধী দলের ভূমিকা পালনঃ যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে পরাজিত হয় তারা বিরোধী দল হিসেবে আইনসভা ভিতর ও বাহিরে কাজ করে আইনসভার বাইরে তারা সরকারি নীতির সমালোচনা করে তাদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে নিজেদের পক্ষে জনমত সংগঠিত করে

পৃষ্ঠা-

০৭ আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখাঃ রাজনৈতিক দল আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে সংসদীয় ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখে সরকারি দলের প্রধান নেতা এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতার একই সঙ্গে কেবিনেট ও আইন সভার সদস্য দলীয় ব্যবস্থা করলে আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় না ফলে সরকার ব্যবস্থা স্থিতিশীল হয়
০৮ নিজ দলের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষা করাঃ রাজনৈতিক দল একটি সংগঠন যার রয়েছে একটি কাঠামো তাদের একটি আদর্শ ও কর্মসূচি রয়েছে তাছাড়া দল পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান বা গঠন কাঠামো আছে যার মাধ্যমে দল পরিচালিত হয় ও দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয় নিজের  দলের শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য প্রত্যেক দল গণতন্ত্র ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করে
০৯ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাঃ রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে রাজনৈতিক দল তাদের মতামত কর্মসূচি বক্তৃতা বিবৃতি ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে
গণতন্ত্রের সাফল্যের শর্তাবলী সমূহঃ
তত্ত্বগত বিচারে গণতন্ত্র আদর্শ ও সর্ব উৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসেবে রাজনৈতিক চিন্তার জগতে স্বীকৃত গণতন্ত্রকে বাস্তবে কার্যকর করে তুলতে হলে বহুবিধ শর্ত পালন করতে হয় তবে সকল শর্তের মধ্যে সবচেয়ে বড় সত্য হলো জনগনজে এস মিল বলেছেন, “জনগণকে গণতন্ত্র গ্রহণ করতে এর সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতে এবং তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে তাহলেই কেবল একটি দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সাফল্য অর্জন করতে পারবে
০১ গণতান্ত্রিক জনগণঃ গণতন্ত্র কে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য যে জিনিসটি প্রয়োজন তাহলে জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক ধারণা উপস্থিত গণতান্ত্রিক চেতনায় জনগণকে শাসনকার্যে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে আবার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা তার সাফল্য অর্জন নাগরিকদের কাছে বিশেষ যোগ্যতা দাবি করে এর পরিবর্তে কোন নাগরিকরাও সমৃদ্ধ জীবনের সন্ধান পায়
০২ গণতান্ত্রিক পরিবেশঃ মানুষের ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশে জন্য উপযোগী পরিবেশ এই হলো গণতান্ত্রিক পরিবেশ এর জন্য প্রয়োজন সকল সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের স্বীকৃতি ও সংরক্ষণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং অন্যায় ও শোষণ গণতন্ত্রের সমাধি রচনা করে
০৩ আইনের শাসনঃ গণতন্ত্রের সফলতার একটি অন্যতম শর্ত হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা আইনের চোখে সবাইকে সমান দেখতে হবে এতে সকল সমান অধিকার ভোগ করতে পারবে এবং গণতন্ত্র সফল হবে
০৪ যোগ্য নেতৃত্বঃ রাজনৈতিক নেতৃত্ববর্গের ন্যায় নীতি বিবেকবোধ এর উপর গণতন্ত্রের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভরশীল স্বার্থপর ও স্বেচ্ছাচারী নেতৃত্ব গণতন্ত্রের কবর রচনা করে এছাড়া দুর্বল নেতৃত্ব কারণে বহু দেশে গণতন্ত্র আজ বিপদের সম্মুখীন হয়েছে এ কারণে রাষ্ট্রীয় নেতাদের ন্যায় পরায়ণতা,সততা,উদারচিত,বিবেকবান প্রভৃতি গুণাবলী গণতন্ত্রের সাফল্যের পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য হয়
পৃষ্ঠা-৯


০৫ উপযুক্ত শিক্ষাঃ শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার কে গণতন্ত্রের সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয় গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের শাসন আর জনগণের অধিকাংশ যদি অশিক্ষিত হয় তবে তাদের পক্ষে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করা সম্ভব হয়

০৬ জনমতঃ গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত হলো সুস্থ ,সবল ও সদাজাগ্রত জনমতসদা সতর্ক এবং সক্রিয় জনমত সরকারের স্বৈরাচারীতা রোধ করে এবং সরকারকে গণমুখী করেন তাই গণতন্ত্রের সাফল্য জনমতের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল
০৭ সহিষ্ণুতাঃ পরমত সহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্র গণতন্ত্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসন শাসন ব্যবস্থা কে সফল করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠরা যেমন সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন মেনে নেবে, তেমনি সংখ্যাগরিষ্ঠ কেউ সংখ্যালঘু তথা বিরোধী দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব পোষণ করতে হবে এজন্য বলা হয়ে থাকে "Majority must be granted, Minority should be respected"

০৮ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণঃ গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ কে অন্যতম শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় অধ্যাপক ব্রাইস যথার্থই বলেছেন "Democracy needs local-self government as its foundation". সাহিত্য শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটে আর জনসাধারণের স্থানীয় শাসনের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ব্যাপক সুযোগ পায়
০৯ জনমতঃ গণতন্ত্র সাফল্যের জন্য আরও একটি অপরিহার্য শর্ত হলো সুস্থ, সবল ও সদা জাগ্রত জনমত সদা সতর্ক এবং সক্রিয় জনমত সরকারের স্বৈরাচারীতা রোধ করে এবং সরকারকে গণমুখী করে তাই গণতন্ত্রের সাফল্য জনমতের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল
১০ সামাজিক ঐক্যঃ গণতন্ত্রের সফলতার জন্য সামাজিক তথা জাতীয় সংহতি ও ঐক্য আবশ্যক J.S.Mill এর মতেজাতীয় ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন গণতন্ত্রের বিকাশের পক্ষে সহায়ক। তাই জনগণের মধ্যে জাতীয় সামাজিক ঐক্যবোধ ছাড়া সফল হতে পারে না
১১ জাতীয় ঐক্য ও সংহতিঃ গণতন্ত্রের জন্য জাতীয় সংহতি ও ঐক্য আবশ্যকমিলের মত অনুসারে জাতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন গণতন্ত্র বিকাশের পক্ষে সহায়ক জনগণের মাধ্যমে জাতীয় ও সামাজিক ও গণতন্ত্রের সফল হতে পারে না







পৃষ্ঠা-১০

গণতন্ত্র চর্চায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকাঃ রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব সর্বজন স্বীকৃত একটি জনমত গঠনের একটি প্রকৃষ্ট উপায় এবং গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করার একটি অন্যতম সংস্থা রাজনৈতিক দল দেশে নির্বাচক মন্ডলী এবং সরকারের মধ্যে এক অপরিহার্য সেতুবন্ধন স্বরুপ অবস্থান করে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে

০১ জনগণের প্রতিনিধিঃ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন ও সরকার নিয়ন্ত্রণ চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী কিন্তু জনগণ পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থায় অংশ নেয়ফলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতিনিধিত্ব কারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে

০২ সরকারকে দায়িত্বশীল করেঃ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের তথা নির্বাচকমণ্ডলী সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পায় ফলে সরকার তার কার্যাবলির জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকে কাজেই বলা যায়,গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল না থাকলে সরকার দায়িত্বহীন হয়ে পড়ে

০৩ সমস্যার সমাধানঃ প্রতিটি রাজনৈতিক দল আপন আপন মতাদর্শের ভিত্তিতে জাতীয় সমস্যা গুলোর জন্য নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করে ও তাদের সমাধানের চেষ্টা চালায়

০৪ জনমত গঠনঃ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব বৃন্দ এবং কর্মীগণ, সভা-সমিতি, পত্রপত্রিকা ,পুস্তক প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার কার্য চালিয়ে নিয়ে দলীয় নীতি ও কর্মসূচির সমর্থনে জনমত গঠনে চেষ্টা করে

০৫ প্রার্থী মনোনয়ন নির্বচনীয় প্রচারঃ গণতন্ত্রে প্রত্যেক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তগত করে এজন্য তারা নির্বাচনের সময় যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করে এবং তাদের সমর্থনের ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচার কার্য চালায়

০৬ সরকার গঠনঃ যে দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে সে দল সরকার গঠন করে এবং দলীয় যুক্তি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ চালিয়ে যায়

০৭ প্রতিশ্রুতি পালনঃ সরকার গঠনের পর তাদের কাজ হলো নির্বাচনের পূর্বে জনসাধারণ নিকট দেয় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করা

০৮ সরকারের চালিকাশক্তিঃ গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল সরকারের চালিকা শক্তিতে পরিচালিত হয় রাজনৈতিক দল দেশের সরকার কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
০৯ গঠনমূলক সমালোচনাঃ বিরোধী রাজনৈতিক দল সরকারের নীতি ও কার্যাবলীর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখে এবং গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারে ফলে সরকার দায়িত্বশীল হয়

পৃষ্ঠা-১১
১০ রাজনৈতিক শিক্ষাদানঃ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল সভা সমিতির মাধ্যমে প্রচার অভিযান চালিয়ে জনগণকে রাজনৈতিক শিক্ষাদান করে

১১ ঐক্যবদ্ধ সৃষ্টিঃ রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনসাধারণের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক দলের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ বড় বলে মনে করে বিধায় তাদের মধ্যে স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতার স্থান পায় না

১২ দেশ প্রেম সৃষ্টি করেঃ রাজনৈতিক দল দেশের বিশৃঙ্খলার মধ্যে শৃঙ্খলা আনে জনগণের মধ্যে ঐক্যবোধ সৃষ্টি করে দল ব্যবস্থার জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাসীর মধ্যে স্বদেশ ও স্বজনপ্রীতি জাগ্রত করে
১৩ সমস্যা নির্বাচনঃ সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলগুলো সমস্যা নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুদায়িত্ব পালন করে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বহুবিধ সমস্যা থাকে যেগুলো সাধারণ জনগণের পক্ষে ব্যক্তিগত ভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব পর হয় না এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো সমস্যাগুলো সম্পর্কে সরকার ও জনগণ কে অভিহিত করে

১৪ স্বৈরাচারের পথ রুদ্ধ করেঃ  রাজনৈতিক দল ব্যবস্থায় স্বৈরাচারের পথ রুদ্ধ করে বিরোধী দল সরকারি দলের কার্যকলাপ ত্রুটি-বিচ্যুতির উপ সতর্ক দৃষ্টি রাখে তাই বিরোধী দলের সমালোচনা করে সরকারি দল নিজেদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করতে পারে না

১৫ দরিদ্র ও যোগ্যতা প্রার্থীদের সাহায্য করাঃ বর্তমানে নানা কারণে নির্বাচনী ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দারিদ্র্য ও যোগ্য ব্যক্তিগন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভয় পায়

১৬ অন্যান্য কার্যাবলীঃ আধুনিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ছোটখাটো অনেক কার্য সম্পাদন করে যেমন ভোটার তালিকা,ভোট দান, ভোট গণনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জনসাধারণের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে এছাড়া খরা, বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক সংকটে মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করে ইত্যাদি











পৃষ্ঠা-১২

গণতন্ত্রের দোষ সমূহ
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় শাসন ব্যবস্থায় শত পরিচালনায় গণতন্ত্রের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে গণতন্ত্র কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্র হলো বিশ্বনন্দিত শাসনব্যবস্থাজনকল্যাণ সাধন ও স্বাধীন মতামত প্রকাশের জন্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিশেষ উপযোগী গণতন্ত্রকে একেবারে ত্রুটিমুক্ত বলা যাবে না কিছু কিছু ত্রুটি রয়েছে যা সংশোধন যোগ্য এবং এগুলো দূর করা সম্ভব
০১ পুঁজিবাদের ত্রুটিঃ গণতন্ত্র অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকায় অধিকাংশ সম্পদ মষ্টিমেয় পুঁজিবাদীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয় ফলে দেশের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিত্তবান পুঁজিবাদীদের করায়ত্ত হয়

০২ আমলাতন্ত্রের ত্রুটিঃ গণতন্ত্রের জনপ্রতিনিধিদের সুষ্ঠু শাসনকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকে না ফলে প্রশাসনিক ব্যাপারে তারা আমাদের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে আর আমাদের প্রধান - প্রতিপত্তি জনসাধারণের স্বার্থ অবহেলিত হয়

০৩ অজ্ঞ অশিক্ষিত দের শাসনঃ গণতন্ত্র অশিক্ষিত অজ্ঞ অক্ষম ব্যক্তির শাসনকারণ গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন এবং জনগণের অধিকাংশ অশিক্ষিত ও অজ্ঞলেকি বলেছেন,গণতন্ত্র হলো সর্বাপেক্ষা অগ্রসর ব্যাখ্যা অযোগ্য ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা

০৪ ব্যয়বহুলঃ অনেকের মতে গণতন্ত্র হলো একটি ব্যয়বহুল শাসনব্যবস্থা ঘনঘন নির্বাচনে ব্যবস্থা, জনমত যা, ব্যাপক প্রচার কার্যপরিধি কে কেন্দ্র করে সরকার প্রচুর অর্থ অপচয় করে

০৫ সংখ্যালঘুদের স্বার্থের অবহেলাঃ গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ব্যবস্থা তাই জনসংখ্যা আইন সভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না লে তাদের স্বার্থ অবহেলিত হয়

০৬ সততা ও যোগ্যতার কদর নেইঃ যে কোন শাসন ব্যবস্থায় সাফল্য শাসকবর্গের বুদ্ধিমত্তা ও গুণগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল কিন্তু গণতন্ত্রের সততা ও যোগ্যতার যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয় না এখানে শিক্ষিত,অশিক্ষিত, যোগ্য, যোগ্য,নির্বিশেষে সকলকে সামন মর্যাদা দেওয়া হয়

০৭ রক্ষণশীলঃ গণতন্ত্র অশিক্ষিত ও অজ্ঞ ব্যক্তির শাসন তাই শাসন ব্যবস্থা প্রকৃতিগত শাসন এ শাসনব্যবস্থা প্রকৃতিগতভাবে প্রগতিবিরোধী ও রক্ষণশীল

০৯ জরুরি অবস্থা অনুপোযোগীঃ বহিরাক্রমণ,অভ্যন্তরীণ গোলযোগ,প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রভৃতি সংকটময় মুহূর্তে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় কিন্তু গণতন্ত্রের আলাপ আলোচনার মধ্যে সরকার পরিচালিত হয় বিধায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়

পৃষ্ঠা-১৩

Post a Comment

Previous Post Next Post