আরও খবর জানতে ঃ ➤ ক্লিক করুন
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আজ থেকে শুরু হচ্ছে। আগামী রোববার ১২ই জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্ব। মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে ১৭ই জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। ১৯শে জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমা সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইজতেমায় যোগ দিতে দলে দলে আসছেন মুসল্লিরা। মুসল্লিদের এ ঢল আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। প্রথম পর্বে তিনদিনে ইজতেমার শীর্ষ মুরব্বিরা ঈমান ও আমলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।


আরও খবর জানতে ঃ ➤ ক্লিক করুন

এদিকে, গতকাল সকাল থেকে কয়েকবার বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা। ইজতেমায় যোগ দিতে বুধবার থেকেই ময়দানে আসছেন তারা। বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে করে এসব মুসল্লি টঙ্গী স্টেশন রোড, চেরাগআলী, উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় নেমে হেঁটে ময়দানে এসে নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। তবে এবার যেসব মুসল্লি ময়দানে তাদের খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন তাদের প্রায় সবাই বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে পলিথিন-কাগজ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বলে মাঠে অবস্থানরত মুসল্লিরা জানান।

জেলা প্রশাসক: গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. এসএম তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আয়োজকরা জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে বিশ্ব ইজতেমার এত বড় আয়োজন প্রতি বছরই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। এবারও মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য মাঠ প্রস্তুত। দেশব্যাপী আলেম-ওলামাদের ব্যাপক প্রচারের ফলে এবারে অনেক মুসল্লির সমাগম ঘটার সম্ভাবনা থাকায় ইজতেমার ময়দানে খিত্তার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ পর্বে যোগ দিচ্ছেন ওলামামাশায়েক অনুসারী মুসল্লিরা। আগামী রোববার আখেরি মোনাজাত দিয়ে শেষ হবে এ পর্ব। এরপর দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সা’দ কান্ধলভির অনুসারীদের ইজতেমা আগামী ১৭ই জানুয়ারি শুরু হবে। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১৯শে জানুয়ারি ।

মেয়র জাহাঙ্গীর: গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র এড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা চাই ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা নিরাপদে আসতে পারে এবং যেতে পারে। সবাই যেন রাসুলুল্লাহ (সা.) কে পাওয়ার জন্য যেভাবে পরিশ্রম করছে সে সাথে আমাদের গাজীপুরের মানুষও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারিরা সহযোগিতা করছে। এছাড়া এবার ইজতেমা ময়দান এলাকায় এলইডি লাইট দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে মুসল্লিদের যাতায়তের পথগুলো মেরামত, ময়দান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যাহত রয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার সার্বিক দিক ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত থেকে দেখভাল করছি।
আরও খবর জানতে ঃ ➤ ক্লিক করুন

মহাসড়কে যান চলাচলে নির্দেশনা: তাবলীগ জামাতের অন্যতম বৃহত্তম এই সম্মিলনের নিরাপত্তা ও মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পক্ষ থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার মেজবাউদ্দিন জানান, ময়দানকে মোট ৯২টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এবার দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৮৭টি খিত্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচটি খিত্তা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। কোনো জেলার মুসল্লি বেশি হলে অথবা মাদরাসা ছাত্রদের ওই খিত্তাগুলোতে দেয়া হবে। বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে দেশের মুসল্লিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে নিবাস তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগের খিত্তাগুলোর সঙ্গে এবার অতিরিক্তি ১৪টি খিত্তা বারানো হয়েছে।

ইজতেমার প্রধান আকর্ষণ: এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে ইতিমধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন ইজতেমার প্রধান আকর্ষণ তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা আহমদ লাট ও মাওলানা ইবরাহিম দেওলা। বুধবার সন্ধ্যায় তারা ইজতেমা মাঠে এসে পৌঁছেছেন।
 

আরও খবর জানতে ঃ ➤ ক্লিক করুন

ইজতেমায় অংশগ্রহণে সারা বিশ্ব থেকে আসছেন হাজারো বিদেশী মেহমান। তাদের আবাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাজ করছেন বাংলাদেশের তাবলিগ জামাতের প্রধান মারকাজ কাকরাইল মসজিদের নির্ধারিত একটি প্রতিনিধি দল। ইতিমধ্যে বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, ভারত, সৌদি আরব ও কম্বোডিয়া থেকে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এসেছেন। এবারের প্রথম পর্বের আলমি ইজতেমায় মাওলানা জুহাইরুল হাসান, মাওলানা খোবাইবুল হাসান, মাওলানা ইসমাইল গোধরা, ডক্টর সানাউল্লাহ খান, মাওলানা আকবর শরীফ, মাওলানা ইউনুস মুম্বাইসহ তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

বিশ্ব ইজতেমায় যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা: ইজতেমায় ধর্মপ্রাণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এসব নির্দেশনা।
গাড়ি পার্কিংয়ের বিধিনিষেধ: রেইনবো ক্রসিং হতে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত এবং রামপুরা ব্রিজ হতে প্রগতি সরণি পর্যন্ত রাস্তা ও রাস্তার পাশে কোনো যানবাহন পার্কিং করা যাবে না।
আরও খবর জানতে ঃ ➤ ক্লিক করুন

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যানবাহনগুলো নিম্ন বর্ণিত স্থানে (বিভাগ অনুযায়ী) যথাযথভাবে পার্কিং করবেন। চট্টগাম বিভাগ পার্কিং: গাউসুল আজম এভিনিউ (১৩ নং সেক্টর রোডের পূর্বপ্রান্ত হতে পশ্চিমপ্রান্ত হয়ে গরিবে নেওয়াজ রোড)। ঢাকা বিভাগ পার্কিং: সোনারগাঁও জনপথ চৌরাস্তা হতে দিয়াবাড়ি খালপাড় পর্যন্ত। সিলেট বিভাগ পার্কিং: উত্তরার ১৫ নং সেক্টর খালপাড় হতে দিয়াবাড়ি গোলচত্ত্বর পর্যন্ত। খুলনা বিভাগ পার্কিং: উত্তরার ১৭ ও ১৮ নং সেক্টরের খালি জায়গা (প্রধান সড়কসহ)। রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ পার্কিং: প্রত্যাশা হাউজিং। বরিশাল বিভাগ পার্কিং : ধউর ব্রিজ ক্রসিং সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশন। ঢাকা মহানগর পার্কিং : উত্তরার শাহজালাল এভিনিউ, নিকুঞ্জ-১ এবং নিকুঞ্জ-২ এর আশপাশের খালি জায়গা রাখার জন্য বলা হয়েছে।
আরও খবর জানতে ঃ ➤ ক্লিক করুন


Post a Comment

Previous Post Next Post